গ্রীসে যাওয়ার পথে নিহত সুনামগঞ্জের ৫ যুবক,
গ্রীসে যাওয়ার পথে নিহত সুনামগঞ্জের ৫ যুবক,
- আপডেট সময় : ০৬:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

২৮ মার্চ ২০২৬ | SNA Official News ডেস্ক
দিরাই উপজেলার পাঁচ যুবক লিবিয়া থেকে নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতদের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। তারা হলেন,

মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২)
মো. সাহান এহিয়া (২২)
মো. সাজিদুর রহমান (২৬)
মুজিবুর রহমান (৪০)
মো. তারেক মিয়া (২৩)
স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ছোট নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা
বেঁচে যাওয়া এক যুবকের বরাতে জানা যায়, লিবিয়া থেকে মোট ৪৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী যাত্রা শুরু করেন।
বড় নৌকার কথা বলে তাদের একটি ছোট বোটে তোলা হয়। ওই বোটে ৫ জন সুদানের নাগরিক এবং ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানির অভাবে অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের পাঁচজন রয়েছেন।
মরদেহ দুই দিন নৌকায় রাখা হয়। পরে দুর্গন্ধ ছড়ালে সাগরে ফেলে দেওয়া হয় বলে ভিডিও বার্তায় জানান বেঁচে যাওয়া একজন।
উদ্ধার অভিযান
ক্রিট দ্বীপর কাছে গ্রিস কোস্টগার্ড জানায়, ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন।
পরিবারে শোক
নিহত মো. সাহান এহিয়ার বড় ভাই জানান, প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তারা বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দেন। ঢাকা থেকে বিমানে প্রথমে সৌদি আরব, পরে মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। কয়েক দিন যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর তাদের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
প্রশাসনের বক্তব্য
এনামুল হক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সন্ধ্যার পর জানা গেছে এবং পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে। এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সনজীব জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর পাওয়ার পর ঘটনাটি যাচাই করা হচ্ছে। তিনি ঘটনাকে মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেন।
অবৈধ পথে ইউরোপগামী ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা আবারও প্রাণ কেড়ে নিল সুনামগঞ্জের পাঁচ তরুণের। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং মানবপাচার চক্র নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।









